তুচ্ছ কাজ (বোধ গল্প )
বোধ গল্প; তুচ্ছ কাজ
রবিন আর রুদ্র দুই জমজ ভাই, তাদের বয়স দশ বছর। তাদের বাবা আলোমের একটি মুরগির ফার্ম আছে। প্রতিদিন সে ফার্ম থেকে হাজার খানেক ডিম পায় আলম।
রবিন আর রুদ্র সকাল সকাল তাদের বাবার সাথে ফার্মে এসে ডিম সংগ্রহে বাবাকে সাহায্য করার ছলে খেলাধুলা করে তারা একজন আরেকজনকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে, এ খেলা খেলতে তাদের অনেক ভালো লাগে। দুজনের খেলা শেষ হতে হতে প্রতিদিন কুড়ি খানেক ডিম বাঙ্গে তারা। ছেলেদের আনন্দ দেখে বাবা এই ক্ষতির তোয়াক্কা করেন না।
এক দিন আলোমের বাবা মানে রবিন ও রুদ্র এর দাদা তাদের সাথে ফার্মে যান এবং নাতিদের এমন আচরণ দেখে অবাক ও লজ্জিত হন।
তিনি রবিন ও রুদ্র কে তার কাছে ডেকে কাছে নিয়ে গেলেন এবং ডিম পারছে এমন একটি মুরগির সামনে দুজনকে দার করালেন। দুজনকে মনোযোগ সহকারে মুরগিটির ডিম পারার মুহূর্তকে অনুভব করার চেষ্টা করতে বল্লেন।
ঠিক তখনই ই একটি মুরগি কক কক করে একটি ডিম পারলো। দাদা তখন দুজন কে বল্ল দেখ একটি মুরগির কতোটা কষ্ট করে আমাদের জন্য একটি একটি করে ডিম পাড়ে আমাদের উচিত এই ডিম গুলো যথা যথ কাজে ব্যবহার করা এটা খেলা করে নষ্ট না করা। যথা যথ ব্যবহার করার মাধ্যমেই তাদের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করা হবে।
রবিন বল্ল; দাদু ওরা তো মুরগি আর মুরগির কাজই হলো খাওয়া আর ডিম পাড়া, ডিম পাড়ে ওদের কোন কষ্ট ই হয় না।
আর ডিম ছোড়া ছুড়ি করতে আমাদের অনেক ভালো লাগে, রুদ্র ও বল্ল ঠিক তাই। দাদু কোন কথা বললেননা।
ওই দিন বিকেল বেলায় রবিন, রুদ্র তাদের শিক্ষককে অঙ্ক বিষয়ের বাড়ির কাজ জমা দেয় তাদের সকল অঙ্ক গুলোই সঠিক হয়েছিল তবে শিক্ষক তাদের কোন বাহবা তো দেইনি বরং খাতা গুলিকে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয়।
শিক্ষকের এ আচরণে তারা মন খুন্ন হয়। দুই ভাই কান্না করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে এমন সময় তাদের দাদু এসে তাদের সামনে দাঁড়াল এবং কান্না করার কারন জানতে চাইলো।
এক ভাই বল্ল; দাদু সারা দিন ধরে অনেক কষ্ট করে আমরা অঙ্ক গুলি করেছিলাম , স্যার আমাদের একটুও প্রশংসা তো করলোই না এদিকে আমাদের খাতা গুলো মাটিতে ফেলে দিয়েছেন।
দাদু বল্ল; খাতা ছুড়ে ফেলে দিয়েছে তো কী হয়েছে! তোমরা তো ছোড়া ছুড়ি খেলতে খুব পছন্দ কর, আর তোমাদের প্রশংসাইবা কেন করতে হবে? তোমরা তো ছাত্র তোমাদের কাজ হলো ভালো ভাবে পড়া লেখা করা আর এর জন্য তো তোমাদের খাবার দেওয়া হয়।
ওরা ছোট হলেও দাদুর দেয়া শিক্ষা টা ঠিক ঠিক বুঝতে পেরেছে। দাদু তুমি কী সকালের ব্যাপারটা এখনও মনে রেখেছ? -ওরা জিজ্ঞেস করল।
পিছন থেকে তাদের শিক্ষক বলে উঠলো হ্যা! ঠিক তাই।
তোমাদের দাদু তোমাদের দুষ্টামির কথা সম্পর্কে আমাকে সব কিছুই বলেছেন। তোমরা প্রতিদিন খেলার ছলে অনেক গুলো ডিম ভেঙ ফেল। খালি চোখে দেখলে তোমরা শুধু ডিম ভাঙ কিন্ত গভীর ভাবে ভাবলে ওগুলো শুধু ডিম নয়; ওগুলো নতুন কিছু জীবনের আধার, ওগুলো একটা প্রানীর জীবনের সব থেকে বড় সফলতা, ওগুলো মানুষের খাবার এবং তোমাদের বাবার অর্থের মূল উৎস।
এটা সত্য তোমাদের আমাদের মত একটি মুরগি কখনোই মন খারাপ করতে পারে না বা মানুষের মত মনে কষ্ট ও খোব এর কথা বলতে পারে না। তাই বলে আমাদের কী তাদের জীবনের সর্বোচ্চ সফলতাকে তুচ্ছ বলে হেয়ালি করাটা ঠিক হবে?
রবিন ও রুদ্র বল্ল; আমরা আমাদের ভূল বুঝতে পেরেছি কাল থেকে আমরা আর একটা ডিম ও নষ্ট করবো না।
দাদু বল্ল; শোন ভাই রা শুধুমাত্র মুরগির সাথে নয় পৃথিবীর সকল মানুষদের কাজের সম্মান দিতে হবে তা সে কাজ তোমাদের কাছে যত সহজ কিনবা সামান্য ই মনে হয় না কেন।
কারণ, হতে পারে তোমাদের কাছে যে কাজ অতি সহজ ও সামান্য অন্যদের কাছে তা অতি কঠিন ও সাফল্য মন্ডিত। তাদের শিক্ষক তাদের কে বল্ল তোমরা দুজনেই খুব মেধাবী ও পারিশ্রমি তোমাদের বাড়ির কাজে তোমরা পুরো নম্বর অর্জন করেছ।
তোমাদের এই শিক্ষাটা দেওয়ার জন্য আমি তোমাদের মতো একটু আচরণ করলাম, যেমন করে তোমরা ডিম ছোড়া-ছুড়ি কর, তবে আমি কথা দিচ্ছি আর কোন দিন তোমাদের খাতা এভাবে ছুড়ে মারবো না।
ওরা মাথা তুলে বল্ল আমরা ও কোন দিন আর ডিম ছোড়া ছুড়ি করবো না এবং অন্যদের কাজের সম্মান করবো তা সে কাজ যত ছোটোই হক না কেন।

No comments